August 9, 2026, 10:53 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্থগিত কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়ায় স্থগিত হওয়া একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ অনুষ্টিত হচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে দু’রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টান টান উত্তেজনা ও প্রভাব বিস্তার চলছে। ২৫ ডিসেম্বর (শনিবার) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এ,এইচ,এম বদিউল আলমের শ্যালকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন আধিপত্য বিস্তারের জন্য চেয়ারম্যান বদিউল আলমের অনুগত শিবির কর্মীরা লাঠিসোটাসহ দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র স্বস্ত্র মজুদ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এ সব মজুদকৃত লাঠিসোটা চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এ,এইচ, এম বদিউল আলমের বাড়ির লাগোয়া তার শ্যালক এক সময়ের ছাত্রশিবিরের নেতা মো: সেলিমের বাড়ি থেকে এ সব লাঠি জব্দ করা হয়েছে। পেকুয়া থানার এস,আই মোজাম্মেল, এস,আই নাদির শাহের নেতৃত্বে পুলিশ ওই স্থান থেকে এ সব উদ্ধার করে। এ দিকে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম আবুল কাসেম। ৩০ ডিসেম্বর স্থগিত একটি কেন্দ্রে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চান নৌকার মনোনীত ওই প্রার্থী। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী এ,এইচ,এম বদিউল আলমের শ্যালকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রার্থী পরের দিন দুপুরে সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) পেকুয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এ সময় পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম কাসেম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পেশীশক্তির প্রভাব বিস্তার চলছে। এক দিকে কালো টাকার ছড়াছড়ি অন্যদিকে বহিরাগত সন্ত্রাসী জোরদার করা হচ্ছে। চশমা প্রতীকের প্রার্থী এ,এইচ,এম বদিউল আলম নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ঘটানোর চেষ্টায় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ ডিসেম্বর লাঠিসোটা মজুদ করে। টইটং থেকে ট্টলিতে করে বিপুল পরিমাণ লাঠি নিয়ে আসে। মজুদের সময় চেয়ারম্যানের শ্যালক সেলিমের বাড়ি থেকে এ সব জব্দ করে। ট্টলি চালকের বাড়ি টইটংয়ে। চেয়ারম্যান জাহেদ তাকে চিনে। শিবিরের দুর্ধর্ষ কর্মীরা এখন বারবাকিয়ায়। চট্টগ্রাম কক্সবাজার, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানের জামায়াত-শিবির ও এদের রাজনৈতিক শক্তির দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের নিয়ে আসা হয়েছে। পেশীশক্তি দিয়ে বদিউল আলম সাহেব জিততে চান। আমি ৩শতের বেশী ভোটে অগ্রগামী রয়েছি। আমার বিজয় নস্যাৎ করতে কালো টাকা ও পেশী শক্তির প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। আমাকে হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীতায় ভোগছি। তারা সংঘবদ্ধ। গত কয়েক মাস আগে পেকুয়ায় হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডাররা যারা ঘটনায় জড়িত ছিল এরা মূলত অধরা থেকে গেছে। তারাই এখন নির্বাচন নিয়ে বেপরোয়া। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা আ’লীগ সদস্য এস,এম গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জেলা আ’লীগের এ নেতা বলেন, আমরা ক্ষমতাসীন দল। তবে তারা যে ভাবে ভোট নিয়ে প্রভাব দেখাচ্ছে আমরা ওদের আচরণ ও উগ্রতা দেখে হতবাক হয়েছি। বদিউল আলম সাহেব যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দন্ডিত ৫ জন রাজাকারের গায়েবানা জানাজার ইমামতি করেছে। জামায়াত-শিবিররা মরণ কামড় দেয়ার জন্য সুযোগ খোঁজছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো শিবিরের ক্যাডারদের গ্রেপ্তার করুন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও যুবলীগ পেকুয়ার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএনপি নেতা শাহাদাত মেম্বার নির্বাচনের সময় মিটিং থেকে নাশকতার হুমকি দিয়েছিল। এখন তারা লাঠিসোটা ও অস্ত্র স্বস্ত্র মজুদ করছে। ব্যালট ছিনতাই করে নৌকার বিজয়কে থামাতে চান। সাবেক ছাত্রনেতা সালাহ উদ্দিন মাহামুদ বলেন, জঙ্গীর পৃষ্ঠপোষক উগ্রতাবাদ শক্তি ভোট নিয়ে চক্রান্ত করছে। বদিউল আলমের মেয়ের জামাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী প্রভাষক রফিকুল ইসলামের ছকমতে শিবিরের ক্যাডাররা ভোটে শক্তির জন্য এক হয়েছে। এইট মার্ডারের আসামী শিবিরের সাবেক ক্যাডার এটিএম মিজবাহুল করিম সমস্ত অর্থ যোগান দিচ্ছে চশমা প্রতীকের পক্ষে।